‘ভিয়েতনামপ্রবাসীরা অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন না, অথচ জেলে পাঠানো হলো: মান্না 

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

‘ভিয়েতনামপ্রবাসীরা অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন না, অথচ জেলে পাঠানো হলো: মান্না 

ভিয়েতনাম প্রবাসীরা অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন না, অথচ জেলে পাঠানো হলো। ভিয়েতনাম ফেরত প্রবাসীদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না একথা বলেন।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সাকিবের সাক্ষরিত পাঠানো বিবৃতিতে মান্না বলেন, ১ সেপ্টেম্বর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৩৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আর এদিনই ভিয়েতনামফেরত ৮১ প্রবাসীকে জেলে পাঠানো হলো। সাথে রয়েছে কাতারপ্রবাসী আরও দুইজন।

তিনি বলেন, একটা সরকার কতটা অমানবিক হলে অপরাধীদের বাঁচাতে নির্যাতনের শিকার মানুষকে জেলে পুরে রাখতে পারে। এই ৮১ জনের প্রত্যেকে চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে যাওয়ার জন্য যত নিয়ম-কানুন আছে সব প্রক্রিয়া শেষ করে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে ভিয়েতনামে যান। প্রতারণার শিকার এই প্রবাসীরা ভিয়েতনামের বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়েছিলেন প্রতিকারের আশায়। আর সেটিকে দূতাবাস দখলের চেষ্টা বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন খোদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কী বিস্ময়কর ঘটনা!

তিনি বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন ২০১৩ অনুযায়ী, বিদেশে কোনো সমস্যা হলে প্রবাসীরা নিজ দেশের দূতাবাসে যাবেন, সেটাই স্বাভাবিক। অথচ বলা হলো, এরা দূতাবাস দখল করতে গেছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত দালাল, এজেন্সি বা জনশক্তি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ভুক্তভোগীদের জেলে পাঠানো হলো।

মান্না বলেন, এর আগে কুয়েত, কাতার ও বাহরাইন থেকে আসা ২১৯ জনকে দিয়াবাড়ির কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে জেলে নেয়ার সময় যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, এবারও সেই একই অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিটি শব্দ, বাক্য, একই। সেই একই অভিযোগ, কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার খবর জানতে পেরেছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশ, সেই মামলার এজাহার আর এবারের মামলার এজাহার হুবহু এক, এমনকি বানান এবং বাক্যবিন্যাসের ভুলগুলোও।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অভিবাসীরা বিভিন্ন অপরাধে সেখানে জেলে থাকলেও ভিয়েতনাম থেকে ফেরত আসাদের কেউই সেদেশে কোনো অপরাধে অভিযুক্ত বা কারাগারে ছিলেন না। দেশে এসে তারা হঠাৎ করে অপরাধী হয়ে গেল। ভিয়েতনামফেরত প্রবাসীরা দালালচক্রের হোতা, জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সি এবং এদের সাথে কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কতিপয় কর্মকর্তা এবং দূতাবাসের সুসম্পর্কের কথা বারবার বললেও তাদের ব্যাপারে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

Development by: webnewsdesign.com