শায়েস্তাগঞ্জে চেয়ারম্যান ডিলার ও ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০ | ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ

শায়েস্তাগঞ্জে চেয়ারম্যান ডিলার ও ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ

করোনা পরিস্থিতিতে খাদ্যসংকট মুহূর্তেও তালিকায় নাম থাকা অনেক হতদরিদ্ররা পাচ্ছে না ১০ টাকা কেজির চাল। সরকারের এ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া যায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ১১ নং ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও ডিলারের বিরুদ্ধে।

ওই দুই জনপ্রতিনিধি ও ডিলারের বিরুদ্ধে ঐ ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের রোকেয়া বেগম নামের এক নারী ভুক্তভোগী ৩০ জুলাই শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারী রোকেয়া বেগম জানান- ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ কামাল মিয়া এলাকার।



হতদরিদ্রের নাম ব্যবহার করে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছে। ওএমএস ডিলার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মাহবুব হোসেন চেীধুরী দিলু ও ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হোসেইন মুহাম্মদ আদিল জজ মিয়ার সহযোগিতায় তার নামের চাল দীর্ঘদিন ধরে আত্মসাত করে আসছেন।

তিনি আরও জানান- ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকা হলে ৪৮১ ক্রমিকে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। শুরুতে দু’তিন মাস চাল ফেলে ডিলার তার কার্ড চেক করার কথা বলে নিয়ে যায়। পরে ঐ কার্ড আর ফেরত দেয়নি ডিলার মাহবু হোসেন দিলু।

একের পর এক অযুহাত দেখিয়ে তার চাল আত্মসাত করে আসছে বছরের পর বছর। এক সময় বলা হয় তার নাম তালিকা থেকে কেটে দেয়া হয়।

রোকেয়া বেগম আরও জানান ইদানিং অনেকেই বলছে আমার নামে চাল আসছে। কিন্তু আমার ওয়ার্ড মেম্বার কামাল মিয়া কখনো আমাকে বলেনি যে আমার নামে চাল আসছে ভুয়া টিপসহি।

বা স্বাক্ষর দিয়ে আমার নামের চাল তুলে ডিলার মেম্বার ও চেয়ারম্যান আত্মসাত করে আসছে। তিনি জানান আমি খুবই অসহায়। ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছি। কিন্তু এই মহামারি করোনা ভাইরাসে সরকার হতদরিদ্রদের সহযোগীতা করলেও আমাকে চেয়ারম্যান কিংবা আমার ওয়ার্ড মেম্বার কোন সহযোগীতা করেনি তবে সপ্তাহ।

খানেক আগে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ১০ কেজি চাল দেন রোকেয়া বেগম এর মতো এমন অনেক হতদরিদ্র রয়েছে ওই তালিকায়। তাদের নামে চাল উঠে কিন্তু তারা পায় না। তালিকায় দেখা যায় ভূয়া নাম ব্যবহার করে চাল উত্তোলন এবং তালিকায় নাম থাকা সত্বেও তাকে দীর্ঘ চার বছর ধরে চাল না দিয়ে তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে চাল প্রদান করা।

হয়েছে ভুয়া নাম ভুয়া এন আইডি ব্যবহার করে হতদরিদ্রদের চাল আত্মসাত করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবী করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার কামাল মিয়াকে ফোন করলে তিনি জানান, রোকেয়া বেগম নামে কোন মহিলাকে আমি চিনিনা। এ নামে কোন মহিলা এ ওয়ার্ডে নেই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে রোকেয়া বেমগকে ফোন করলে তিনি জানান আমি রোকেয়া এ গ্রামেই জন্ম নিয়েছি এবং আমার স্বামীর বাড়িও এ গ্রামে এ বিষয়ে চানতে চাইলে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (সুমি আক্তার) এ প্রতিবেদককে জানান, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে অভিযোগের সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হোসেইন মুহাম্মদ আদিল জজ মিয়া এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ওএমএস ডিলার মাহবুব হোসেন চৌধুরী দিলুর বিরুদ্ধে হতদরিদ্রদের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাতের অভিযোগ এনে রহিম উদ্দীন নামে এক হত দরিদ্র ব্যক্তি গত ২৩ জুলাই ও নুরুল হক নামে এক ব্যক্তি ৩০ জুলাই জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার বিভাগ উপজেলা ইউএনও এবং ঝাড়ু মিয়া নামে আরেক হতদরিদ্র ব্যক্তি গত ২৮ জুলাই ইউএনওর বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

Development by: webnewsdesign.com