দেশে তিন কোটিরও বেশি শিশুর রক্তে ক্ষতিকর সিসা: ইউনিসেফ

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০ | ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

দেশে তিন কোটিরও বেশি শিশুর রক্তে ক্ষতিকর সিসা: ইউনিসেফ

বাংলাদেশে মসলায় উচ্চমাত্রায় সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। হলুদের মান নির্দেশক হিসেবে রং ও ওজন বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত লেড ক্রোমেট শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সমানভাবে রক্তে সিসার মাত্রা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে। কিছু পণ্যে সিসার উপস্থিতি জাতীয় সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে ৫০০ গুণ পর্যন্ত বেশি পাওয়া গেছে। আর এর পরিণতি হিসেবে সিসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। সিসার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ শিশু। ইউনিসেফ ও পিওর আর্থের যৌথ এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রতি তিন শিশুর একজন বা প্রায় ৮০ কোটি শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি বা গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আনুমানিক তিন কোটি ৫৫ লাখ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা গ্রহণযোগ্য মাত্রার বেশি রয়েছে।



 

‘দ্য টক্সিক ট্রুথ : চিলড্রেন্স এক্সপোজার টু লিড পলিউশন আন্ডারমিন্স এ জেনারেশন অব পোটেনশিয়াল’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি শিশুদের সিসার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়াবিষয়ক হেলথ মেট্রিকস ইভ্যালুয়েশনের করা একটি বিশ্লেষণ এবং এটি এনভায়রনমেন্টাল হেলথ পারস্পেকটিভসে প্রকাশের জন্য অনুমোদিত একটি গবেষণার মাধ্যমে যাচাই করা হয়।

বাংলাদেশে উন্মুক্ত বাতাসে এবং আবাসস্থলের কাছাকাছি এলাকায় ব্যবহৃত সিসা-এসিড ব্যাটারির অবৈধ পুনর্ব্যবহারকে সিসার সংস্পর্শে আসার একটি প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে রক্তে সিসার উপস্থিতির গড় হার ৬.৮৩ মাইক্রোগ্রাম বা ডেসিলিটার, যা সর্বোচ্চ হারের দিক থেকে বিশ্বে ১১তম।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোজুমি এ বিষয়ে বলেছেন, সিসার বিষক্রিয়া শিশুদের জীবনভর শিক্ষাগ্রহণে অসামর্থ্য করে তোলাসহ তাদের স্বাস্থ্য ও বিকাশের ওপর মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে এবং এর কারণে বড় হওয়ার পর তাদের আয়ের সক্ষমতাও প্রভাবিত হয়। বিপজ্জনক ধাতববর্জ্য ও সিসার দূষণ এবং এর কারণে শিশুদের ক্ষতিজনিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহায়তা করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ করবে ইউনিসেফ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিসার ভূমিকাজনিত কারণে বাংলাদেশে আইকিউ হ্রাস পাওয়ায় অর্থনৈতিক যে ক্ষতি হয়, তা দেশের জিডিপির ৫.৯ শতাংশের সমান। সিসার বিষক্রিয়া শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশের সক্ষমতাকে ব্যাহত করে এবং জীবনে পাওয়া সুযোগগুলোর সর্বাধিক সুবিধা গ্রহণে তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

 

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, প্রথম দিকে অল্প কিছু লক্ষণ দেখা দিলেও সিসা নীরবে শিশুদের স্বাস্থ্য ও বিকাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে মৃত্যুর মতো পরিণতিও ডেকে আনে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিসা একটি শক্তিশালী নিউরোটক্সিন, যা শিশুদের মস্তিষ্কে অপূরণীয় ক্ষতি করে। এ ক্ষেত্রে বলা হয়, মসলা ছাড়াও বিপজ্জনক এবং অবৈধ পুনর্ব্যবহারমূলক কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মীরা ব্যাটারির খোলস ভেঙে একে উন্মুক্ত করেন; যে কারণে এসিড ও সিসার ধূলিকণা মাটিতে পড়ে এবং তাঁরা অপরিশোধিত সিসা উন্মুক্ত চুল্লিতে গলান, যা থেকে বিষাক্ত ধোঁয়া বের হয়ে আশপাশের কমিউনিটিতে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে দেয়।

Development by: webnewsdesign.com