বাগেরহাটে ডাক বিভাগের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বনগ্রামবাসী

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২০ | ৬:৫৩ অপরাহ্ণ

বাগেরহাটে ডাক বিভাগের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বনগ্রামবাসী

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের সেবা পায়না স্থানীয় জনগণ। ব্রাঞ্চ পোস্ট মাস্টার মানসী ওঝা অফিসে আসেন না কখনওই। স্থানীয়রাও জানেন না এই ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার মানসী ওঝা।

সবাই জানে তার স্বামী ওই পোস্ট অফিসের অধীনে থাকা ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি গ্রন্থাগারিক মনি শংকর ঢালী-ই এই পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার। স্ত্রী তো আসেন-ই না অফিসে। স্বামীও থাকেন তার নিজ কাজ নিয়ে ব্যস্ত। কারণ স্বামী মনি শংকর ঢালী তো বনগ্রাম সেনসুরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সামলাতে ব্যস্ত। স্বামী-স্ত্রীর এ ধরণের স্বেচ্ছা চারিতায় ডাক বিভাগের সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন বনগ্রামবাসী এমনই অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।



শুধু অফিস না করা ও সেবা না দিয়েই খ্যন্ত নন তারা। ডিজিটাল সেন্টারের নামে বরাদ্দ ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, মডেমসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও বাড়িতে নিয়ে রেখেছেন মনি শংকর। পোস্ট অফিসে থাকা হাজিরা খাতায়ও স্ত্রীর স্বাক্ষর করেন মনিশঙ্কর। অফিসের পোস্ট ম্যান সন্তোষ কুমার দাস ও পিওন তপন মন্ডলও চলেন মনি শঙ্করের কথায়। এক কথায় সরকারি অফিসকে পারিবারিক সম্পদ বানিয়েছেন মনিশংকর ও তার স্ত্রী মানসী ওঝা।

 

স্থানীয় প্রদীপ ও শুসান্ত বলেন, বাজারের পিছনের একটি দোকানে বনগ্রাম ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিস। অফিসের পোস্ট ম্যান সন্তোষ কুমার দাস অফিসে থাকেন। দোকানে বসেই লন্ড্রির কাজ করেন তিনি। মনি শংকর মাঝে মাঝে আসেন, তিনি এসে কাজ কর্ম করে যায়। আমরা এতদিন ধরে জানতাম মনি শংকরই এখোনের পোস্ট মাস্টার। বিভিন্ন সময় আমাদের এলাকার মানুষের নামে আসা চিঠি এই অফিস থেকে ডেলিভারী না দিয়ে ফেলে দিয়েছেন। স্থানীয় লোকজনের সাথে সম্পর্ক ভাল না থাকায় তারা চিঠি ফেলে দেয়। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণ ও স্থানীয়দের সেবা প্রদানের জন্য সঠিক তদন্ত পূর্বক মানসী ওঝা ও তার স্বামী মনি শংকরের স্বেচ্ছা চারিতার রোধ করার দাবি জানান তারা।

মানসী ওঝার স্বামী মনি শংকর ঢালী বলেন, একটি কাঠের দোকান ঘরে পোস্ট অফিস হওয়ায় উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিজিটাল সেন্টারের সব মালামাল আমার বাড়িতে রেখেছি। করোনা পরিস্থিতিতে আমার স্ত্রী আসেন না অফিসে, আমিই তার সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করি।

ডাকঘর বাগেরহাট উপ-বিভাগ পোস্ট অফিস পরিদর্শক প্রনবেশ গাইন বলেন, বনগ্রাম ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার ও উদ্যোক্তার অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে আমার জানা নেই। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নিব।

Development by: webnewsdesign.com