করোনার প্রভাব

ঐতিহ্যবাহী বাউফলের কালাইয়া গরুর হাটে নেই ক্রেতার ভীর

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২০ | ২:৩০ অপরাহ্ণ

ঐতিহ্যবাহী বাউফলের কালাইয়া গরুর হাটে নেই ক্রেতার ভীর

দেশী গরুর জন্য বিখ্যাত দক্ষিণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাউফলের কালাইয়া গরু হাটে কোরবানীকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার গরু আমদানি হলেও ক্রেতার অভাবে বেচা-কেনা নেই। করোনার প্রভাবে এমনটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাট ইজারাদার। এরফলে সারা বছর ধরে চরাঞ্চলে উন্মূক্তভাবে লালন-পালন করা দেশী গরু-মহিষ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় গৃহস্থ্যরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতি সোমবার কালাইয়া হাট বসে। সারা বছরই কালাইয়া হাটে গরু-মহিষ ক্রয় করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেপারীরা আসেন। কোরবানীকে কেন্দ্র করে বাউফলসহ পাশের উপজেলা ও জেলার ক্ষুদ্র কৃষকরা গরু-মহিষ কিনে সারা বছর চরে উন্মূক্তভাবে লালন পালন করেন। কোরবানীর পূর্বে কালাইয়ার দুই-তিনটি সাপ্তাহিক হাটে বিক্রয় করার জন্য ওই গরু-মহিষ আনা হয়। বেচা-কেনাও ভাল জমে উঠে। এলাকার কৃষকরাও সারা বছর লালন-পালন করা গরু বিক্রি করে কিছু লাভের মুখ দেখেন।



 

কিন্তু এবছরের চেহারা ভিন্ন। হাজার হাজার গৃহস্থ্য তাদের গরু-মহিষ নিয়ে কালাইয়া হাটে হাজির হলেও ক্রেতার অভাবে বিক্রি হচ্ছে না। উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের কৃষক ওমর আলী জানান, আট নয় মাস আগে তিনটি বাছুর গরু কিনে কোরবানীর হাটে বিক্রির জন্য লালন-পালন করে কালাইয়া হাটে এনেছি। কিন্তু ক্রেতার অভাবে গরুর দামও কেহ করছেন না। কেশবপুর ইউনিয়নের মজিবুর রহমান নামের এক কৃষকও একই কথা জানিয়েছেন। এভাবে কালাইয়া হাটে গরু নিয়ে আসা বহু সংখ্যক কৃষক এই প্রতিনিধিকে তাদের কষ্টের কথা জানিয়েছেন।

কালাইয়া হাটের ইজারাদার ও কালাইয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম.ফয়সাল আহমেদ মনির হোসেন মোল্লা জানান, কালাইয়াতে বিক্রি করতে আনা শতকরা পচানব্বই ভাগ গরুই দেশী। দোকানে পাওয়া খাদ্য কিংবা রাসয়নিক খাবার গরুকে খাওয়ানো হয়না। একারণে দেশ ব্যাপি দেশী গরুর জন্য কালাইয়ার গরু হাট প্রসিদ্ধ। কিন্তু করোনার প্রভাবে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেপারীরা আসে না।

ফলে সারা বছর ধরে লালন-পালন করা গরু বিক্রি করতে এনে স্থানীয় গৃহস্থ্যরা বিপাকে পড়েছেন। সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, আসা করি এই দুরাবস্থা বেশি দিন থাকবে না। আল্লাহর রহমতে শিঘ্রই করোনার প্রভাব শেষ হয়ে যাবে এবং আবার বেপারীরা আসবেন। এলাকার গৃহস্থ্যরাও ভাল থাকবেন।

Development by: webnewsdesign.com