বাংলাদেশে কি লকডাউন তুলে নেয়ার পরিস্থিতি আছে?

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২০ | ৪:৫৬ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে কি লকডাউন তুলে নেয়ার পরিস্থিতি আছে?
অঘোষিত লকডাউনে ফাঁকা নগরী ঢাকা।

করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই জারি করা হয়েছে লকডাউন। এতে থমকে গেছে দেশগুলোর অর্থনীতির চাকা। করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে লকডাউন শিথিল করেছে ভাইরাসটির হটস্পট হিসেবে পরিচিত ইতালি এবং স্পেন। ইসরায়েল, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নিউজিল্যান্ডেও ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসের কারণে জারি করা লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও শিগগিরই তুলে নেয়া হতে পারে লকডাউন এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোবৃহৎ দেশ ভারতেও আগামী ৩ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে লকডাউন। বাংলাদেশেও জারি করা অঘোষিত লকডাউন বাড়ানো হয়েছে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একের পর এক লকডাউন তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত দেখে ছয়টি শর্ত দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই ছয়টি শর্তের মধ্যে প্রথমটি হলো, ভাইরাসটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসা। যা বাংলাদেশে এখনো আসেনি। বাংলাদেশে আজ মঙ্গলবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে রেকর্ড ২০৯ জন। এছাড়া এই ভাইরাসে মারা গেছেন ৪৬ জন। মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১২ জন। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে করোনা ভাইরাসের সোশ্যাল ট্রান্সমিশন শুরু হয়ে গেছে।



বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দ্বিতীয় শর্ত হলো, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন আক্রান্ত দ্রুত সনাক্ত, পরীক্ষা, বিচ্ছিন্ন এবং চিকিৎসা করার পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগগুলোর সন্ধান করার ক্ষমতা রাখা। বাংলাদেশের এই শর্তের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে করোনা পরীক্ষা। এছাড়া বেসরকারিভাবেও বাংলাদেশে করোনার পরীক্ষা চালু হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তৃতীয় শর্ত হলো, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে করোনা ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা করা। বাংলাদেশ ঘনবসতি হওয়ায় করোনায় ঝুঁকিপূর্ণ বেশি। ঘনবসতি হওয়ায় পুরান ঢাকায় গত রবিবার একদিনে ৬৬ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে লকডাউনের মধ্যে মানুষজন ঘরবন্দি থাকলেও শিথিল করা হলে নারায়ণগঞ্জ, পুরান ঢাকার মতো ঘনবসতি এলাকাগুলোতে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি থেকেই যাবে। এ জন্য সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া লাগতে পারে। চতুর্থ শর্তে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যদি লকডাউন তুলে ফেলতে হয় তাহলে কর্মক্ষেত্র, স্কুল এবং দোকানগুলোতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে । বাংলাদেশের করোনার কারণে ব্যাংকগুলোতে প্রণোদনা দিয়ে কর্মীদের কাজে যোগ দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। এছাড়া স্কুল, কলেজগুলো এখন বন্ধ রয়েছে। তবে এই মহামারির মধ্যে আগামী ২৫ এপ্রিলের পর কিভাবে এই অফিস আদালত নিয়ন্ত্রণ করা হবে তা নিয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। বাংলাদেশ সরকার দুই দফায় এই লকডাউনের মধ্যে সাধারণ ছুটি বাড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পঞ্চম শর্ত হলো, ভাইরাসের আমদানি ঝুঁকি কমাতে হবে। বাংলাদেশে প্রবাসীদের দিয়েই দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছিলো। লকডাউন তুলে ফেলার পর আবারো দেশে প্রবাসীরা প্রবেশ করতে পারেন। তখন আরেক দফা করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বয়ে যেতে পারে দেশে। লকডাউন তুলে ফেলার পর এটিও একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে বাংলাদেশের জন্য।

শেষ শর্তে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, পুরো সম্প্রদায়কে শিক্ষিত করত হবে এবং নতুন নিয়মের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ এখনও বিভিন্ন এলাকায় লকডাউনের পরেও জনসমাগম কমানো যায়নি। সচেতনতা কম থাকায় সন্ধ্যা হলেই ইঁদুর-বিড়ালের খেলা চলতে থাকে পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে। সরকার বিভিন্ন বিধি নিষেধ দিয়েও ঠেকাতে পারছে না এই জনসমাগম। তাই লকডাউন তুলতে হলে এ দিকটিও সরকারকে গভীরভাবে ভাবতে হবে।

Development by: webnewsdesign.com