কমলগঞ্জে সুইচ গেইট না থাকায় ৬০০ একর জমিতে বোরো চাষ মৌসুম অনিশ্চিত

শুক্রবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৭:৫৫ অপরাহ্ণ

কমলগঞ্জে সুইচ গেইট না থাকায় ৬০০ একর জমিতে বোরো চাষ মৌসুম অনিশ্চিত

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সুইচ গেইট না থাকায় প্রায় ৬০০ একর জমিতে সেচ সংকটের জন্য বোরো চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘ ২ দশকে ও সদর ইউপির বালিয়াছড়ায় সুইচ গেইট নির্মাণ না করায় চলতি বোরো মৌসুমে পানির অভাবে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জ সদর ইউপির বালিয়াছড়ার তীরবর্তী উত্তর বালিগাঁও, পশ্চিম কুমড়াকাপন, রাসটিলা, কান্দিগাঁও, বনগাঁও গ্রামের কৃষকেরা প্রতিবছর বালিয়া ছড়ায় মাটি দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ তৈরি করে বোরো ধানের জমিতে সেচ সুবিধা নিয়ে আসছেন। চলতি মৌসুমে কৃষকরা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ওই নদীতে আবারো বাঁধ নির্মাণ করেন। কৃষক রবি দত্ত ও সেলিম মিয়া জানান, ‘প্রায় ২ দশক পূর্বে ছড়ার উপর ১টি সুইস গেইট নির্মিত হলেও যথাযত পরিকল্পনা বিহীন সুইস গেইটটি কৃষকদের কোন কাজে আসেনি। পাহাড়ের পাদদেশে ছড়ার উৎস মুখে কৃষিজমি বিহীন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে সুইস গেটটি নির্মান করায় তার সুবিধা ভোগ থেকে বরাবরই বঞ্চিত রয়েছেন আমরা। তাই উত্তর বালিগাঁও এলাকার বালিয়াছড়ায় কৃষকদের জন্য অবিলম্বে একটি সুইচগেইট নির্মান করা হলে কৃষকরা উপকৃত হবে।

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, নদীতে স্থায়ী সুইচ গেইট নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় কৃষকেরা ১৯৯৮ সালে মৌলভীবাজারের তৎকালীণ জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করে উত্তর বালিগাঁও প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন এলাকায় বালিয়াছড়ার উপর সুইচ গেইট নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী লিখিতভাবে দাবি জানিয়েছিলেন। এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে ওই স্থানে সুইস গেইট নির্মাণের আশ্বাসও দিয়েছিলেন কিন্তুু অদ্যাবধি সে প্রতিশ্রতির বাস্তবায়ন না হওয়াতে কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

কমলগঞ্জ সদর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সোলেমান হুসেন ভ‚ট্টো জানান, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব। কৃষকদের জন্য সরকার ভর্তুকি দিয়ে ১০৪০টাকায় ধান ক্রয় করছে। তাই কৃষকরা উৎসাহ নিয়ে আবার কৃষি জমিতে চাষাবাদ শুরু করেছেন।
বালিয়াছড়ায় সুইচগেট নির্মাণ না হওয়াতে প্রতিবছর ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে এবং স্থানীয় মহলের সহযোগিতায় অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে বোরো চাষ করা হচ্ছে।

 

এলাকায় একটি সুইস গেইট নির্মিত হলে এলাকার প্রায় ৬০০ একর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং কৃষকরা উপকৃত হবে। তাই কৃষকদের এই ন্যায্য দাবী মেনে নিয়ে অবিলম্বে এখানে একটি সুইসগেইট স্থাপনের জন্য দাবী জানান তিনি। ইউণিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অশি^নী কুমার সিংহ বলেন, আমি নতুন আসায় এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। তবে সেচ সংকট সমাধানে আমার যতোটুকু সহযোগিতা করা দরকার আমি করবো। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, আমি এ উপজেলায় মাত্র কয়েকদিন হয় এসেছি। সরজমিনে পরিদর্শন করে সুইচগেইট নির্মানের জন্য বিএডিসি প্রকৌশল অধিদপ্তর সহ আরো ২/৩টি দপ্তরের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Development by: webnewsdesign.com