ভোরের আলোয় মিলল ফুটফুটে নবজাতক

বৃহস্পতিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১:১৯ অপরাহ্ণ

ভোরের আলোয় মিলল ফুটফুটে নবজাতক

রাত ১১টা, চারদিকে সুনসান নীরবতা। এরইমধ্যে হঠাৎ কানে আসল নবজাতকের চিৎকার। কিছুক্ষণ থেমে থেমে খাল পাড় থেকে ভেসে আসছিল সেই চিৎকার। খালের কাছাকাছি বাড়ি ওসমানদের। সেখানে তখন চলছিল পিঠা তৈরির কাজ। চিৎকারের শব্দ কানে আসতেই থমকে যাচ্ছিল পিঠা তৈরি। সারারাত ভয়ে কেউ খোঁজ করেননি সেই চিৎকারের উৎস। অবশেষে ভোরের আলোয় খাল পাড়ে মিলল এক ফুটফুটে নবজাতক ছেলে। হদিস মেলেনি তার বাবা-মায়ের।
কথাগুলো বলেন বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগম। ঘটনাটি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা গ্রামের।

মনোয়ারা বেগম ভোরে ফজরের নামাজের পর ছুটে যান খাল পাড়ে। কিছুটা হাঁটার পর পরই দেখেন খালের একপাশে কাদা মাখা অবস্থায় পড়ে আছে ফুটফুটে নবজাতক। প্রথম মৃত ভাবলেও কাছে গিয়ে দেখেন বুক নড়ছে। পরে তিনি খাল থেকে নবজাতককে নিয়ে যান বাড়িতে।

 

 

 

 

মনোয়ারা বেগম বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম খাল পাড় থেকে শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পাই। সারারাত খুব ভয় পেয়েছি। পরদিন ভোরে আমি শিশুটিকে উদ্ধার করি।

খবর পেয়ে জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্নজন নবজাতককে দেখতে ভিড় করেন ওই বৃদ্ধার বাড়িতে। তবে কেউ ধারণা দিতে পারেননি নবজাতকের বাবা-মায়ের ব্যাপারে।

বুধবার সকালে চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা দক্ষিণ বাজারের ব্রিজ সংলগ্ন খাল থেকে উদ্ধার হয়েছে এক নবজাতক। খাল পাড়ের বাসিন্দা ওসমানের মা মনোয়ারা বেগম প্রথম শিশুটিকে দেখতে পান। বর্তমানে শিশুটি স্থানীয় ইউপি মেম্বারের হেফাজতে রয়েছে।

ওসমানের স্বজনরা জানান, পিঠা তৈরির সময় রাতে শিশুর চিৎকারের শব্দ শুনে অনেক ভয় পেয়েছিলেন তারা। রাত ১টা পর্যন্ত তারা রান্নাঘরে কাজ করেছেন ভয়ে ভয়ে। ঘুমাতে গিয়েও তারা মুক্তি পাননি শিশুর চিৎকার থেকে। রাত আনুমানিক দুইটার পর থেকে আর চিৎকারের শব্দ পাওয়া যায়নি।

বাড়েরা ইউপির ৭নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শাহিন আলম বলেন, খবর পেয়েই সকালে ওসমানদের বাড়িতে যাই। বাচ্চাটির শারীরিক অবস্থা নাজুক দেখে দ্রুত নিয়ে যাই চান্দিনার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে। সেখানে ডাক্তারের পরামর্শ শেষে শিশুকে নিজের বাড়ি নিয়ে রেখেছি। আমার স্ত্রী শিশুকে মায়ের মতো করে যত্ন নিচ্ছে।

বাড়েরা ইউপি চেয়ারম্যান মো. খোরশেদ আলম বলেন, রাতের অন্ধকারে কেউ খাল পাড়ে ফেলে গেছে ওই নবজাতককে। তাকে উদ্ধার করে মেম্বারের বাড়িতে রাখা হয়েছে। এলাকায় কোন পরিবারে এমন ঘটনা ঘটেছে তা আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

চান্দিনা থানার ওসি মো. আবুল ফয়সল বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Development by: webnewsdesign.com