করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ: টিকা আবিষ্কারে বিজ্ঞানীদের তোড়জোর

বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২০ | ২:১৯ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ: টিকা আবিষ্কারে বিজ্ঞানীদের তোড়জোর

 

ভাইরাস চিহ্নিত হওয়ার পর থেকেই এর প্রতিষেধক বা টিকা আবিস্কারের জন্য জোর তৎপরতা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা। কেউ ভাবেনও নি যে, এই গতিতে এই কাজ এগিয়ে যাবে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়াগোতে ইনোভিও ল্যাবরেটরিতে নতুন এক ধরনের ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা একটি টিকা উদ্ভাবন করেছেন বলে জানানো হয়েছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘আইএনও-৪৮০০’। বর্তমানে এমন নাম দেয়া এই টিকা গ্রীষ্মের শুরুতে মানুষের ওপর পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইনোভিও’তে গবেষণাবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কেট ব্রোডেরিক বলেছেন, চীন এই ভাইরাসের ডিএনএ সিকুয়েন্স প্রকাশ করার পরই আমরা গবেষণাগারে কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিন ঘন্টার মধ্যে এই টিকার একটি ডিজাইন তৈরি করেছি। আমাদের ডিএনএ মেডিসিন ভ্যাক্সিনে ব্যবহার করা হয়েছে এই ভাইরাসের ডিএনএ সিকুয়েন্স। এর উদ্দেশ্য এর রোগবিষয়ক শক্তির সুনির্দিষ্ট অংশকে টার্গেট করা।
আমরা আশা করি, এর পক্ষে শারীরিক শক্তিশালী সাড়া পাওয়া যাবে। এরপর আমরা রোগির নিজের কোষকে ব্যবহার করি টিকা তৈরির একটি ফ্যাক্টরি হিসেবে। এর মধ্য দিয়ে শরীরের নিজস্ব প্রাকৃতিক মেকানিজমকে শক্তিশালী করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এক প্রতিবেদনে সান ডিয়েগো থেকে সাংবাদিক টিউলিপ মজুমদার লিখেছেন, নতুন এক ভয়াবহ ভাইরাস। হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। কোনো প্রতিকার নেই। কোনো টিকা নেই। গত পাঁচটি বছরে বিশ্ব মোকাবিলা করেছে ইবোলা, জাইকা, মার্স নামের আরেকটি করোনাভাইরাস আর এখন মোকাবিলা করছে আরেকটি ভাইরাস, যার পরিচয় ‘২০১৯ নোবেল করোনা ভাইরাস’। এরই মধ্যে এতে আক্রান্ত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। এতে মারা গেছেন শতাধিক। এর আগের ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মতো ঘটে নি এবার। ওইসব সংক্রমণের টিকা আবিস্কারে অনেক বছর সময় লেগেছে। কিন্তু এবার এই ভাইরাস সনাক্ত হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই গবেষকরা এর গতি থামিয়ে দিতে টিকা আবিস্কারের চেষ্টা করছেন।

চীনা কর্মকর্তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই ভাইরাসের জেনেটিক কোড প্রকাশ করেছেন। এর ফলে বিজ্ঞানীদের গবেষণা করা সহজ হয়েছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বিশ্বজুড়ে সরকারগুলোর আর্থিক সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে, দেশে এ নিয়ে চলছে গবেষণা। তারই ধারাবাহিকতায় ইনোভিও অনেকটাই অগ্রসর হয়েছে। তারা বলছে, যদি মানুষের ওপর প্রাথমিক পরীক্ষা সফল হয় তাহলে বৃহত্তর আকারে পরীক্ষা করা হবে। ফলে এই টিকা বছরের শেষ নাগাদ তা চীনে প্রয়োগ করা হতে পারে। তবে তখন পর্যন্ত এই ভাইসের সংক্রমণ এই অবস্থায় থাকবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। তবুও ইনোভিও বলছে তারা যে টাইমলাইন ধরে পরিকল্পনা করছে যদি তারা এক্ষেত্রে সফল হয় তাহলে তারাই হবে বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে একটি নতুন টিকা আবিস্কার।

Development by: webnewsdesign.com